অভিবাসন আইনের সংশোধনী নিয়ে রিফিউজি সপ্তাহের শুরুতে ফেডারেল বিলের দিকে মনোযোগ আনতে চাইছেন প্রস্তাবের সমালোচকরা, এটি বর্তমানে সেনেটে পাশের অপেক্ষায় রয়েছে। -এবার এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন।
মাত্র ছয় বছর বয়সে, তানিয়া নাসেরি এবং তার পরিবার নৌকায় করে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে একটি বিপদজনক যাত্রা শুরু করেছিলেন।
ইরানে জন্মগ্রহণকারী, তানিয়া বলেন অস্ট্রেলিয়ায় নতুন জীবন শুরু করার প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ ছিল।
তিনি বলছেন,"আমরা কিছুদিনের জন্য উদ্বাস্তু শিবিরে ছিলাম এবং সেখানে ইংরেজি শিখেছিলাম, এবং আমি এক সময় স্কুলে যেতে শুরু করেছিলাম।
এখন ১৭ বছর বয়সে, অভিবাসন আইনের একটি নতুন সংশোধনী তাকে এবং তার পরিবারকে শংকায় ফেলেছে, কারণ এতে তারা তাদের মূল দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হতে পারেন।
তানিয়া বলেন ইরান সরকারের বিরুদ্ধে তার বিরোধিতা তাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
তিনি বলছেন, "এই নতুন বিলের কারণে আমি ভীত এবং উদ্বিগ্ন, কারণ যদি আমাকে ফেরত পাঠানো হয় তবে কী হবে? আমি তখন কী করব?
প্রস্তাবিত আইনটি শত শত নন-সিটিজেনদের মধ্যে যাদের ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে তাদের স্বেচ্ছায় অস্ট্রেলিয়া ছেড়ে যেতে বাধ্য করবে, অথবা তাদের কারাবাসের সম্মুখীন হতে হবে।
অন্য একটি নিয়ম অভিবাসন মন্ত্রীকে সেই দেশগুলিকে চিহ্নিত করার অনুমতি দেবে যারা অস্ট্রেলিয়া থেকে ফেরত পাঠানো অভিবাসীদের ফিরিয়ে নিতে অস্বীকার করে।
ওই দেশগুলোকে 'রিমুভাল কনসার্ন কান্ট্রি' হিসাবে মনে করা হয়; অর্থাৎ যদি কোন দেশকে 'রিমুভাল কনসার্ন কান্ট্রি' হিসাবে মনোনীত করা হয়, তবে এর নাগরিকরা অস্ট্রেলিয়ায় ভিসার জন্য আবেদন করতে পারে না বা ভিসা বিধিনিষেধের মুখোমুখি হতে পারে।
যেমন ইরান এবং ইরাকের মতো এই দেশগুলির লোকেরা আর অস্ট্রেলিয়ায় ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবে না।
এই পরিবর্তনটি সেই দেশগুলির বেশিরভাগ বাসিন্দাকে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করা থেকে বিরত রাখবে। তবে পার্টনার বা পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের জন্য ব্যতিক্রম থাকবে।
অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম অ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্কের আইনি উপদেষ্টা রিটা জাবরি মার্কওয়েল বলেছেন যে অভিবাসন মন্ত্রীর এই ধরনের 'ঈশ্বর-সদৃশ' ব্যাপক ক্ষমতা পাওয়ার বিষয়ে কমিউনিটি গ্রুপগুলি উদ্বিগ্ন।
তিনি বলছেন, "মনে হচ্ছে এটি খুব ভালভাবে পাস হতে পারে, তাই আমরা খুব উদ্বিগ্ন। এই বিলটি মন্ত্রীর হাতে প্রচুর ক্ষমতা দেবে। এটি গণতান্ত্রিক নীতির বিরুদ্ধে এবং সমস্ত অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য উদ্বেগের বিষয় হওয়া উচিত।"
তিনি বলেছেন যে অভিবাসন আইনের পরিবর্তনগুলি আইনগুলির জন্য যে মান নির্ধারণ করবে তা উদ্বেগজনক, অগণতান্ত্রিক এবং এমনকি কর্তৃত্ববাদী হতে পারে।
তবে সরকার পূর্বে বলেছে যে বিলটি প্রকৃত শরণার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সুরক্ষার নীতিকে পরিবর্তন করবে না।
এদিকে এটি সিনেটে পাশের অপেক্ষায় আছে এবং গ্রিনস এটি বাতিল করার দাবি করছে।
সিনেটর ডেভিড শুব্রিজ বলেছেন যে এটি মৌলিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ।
তিনি বলছেন, "এই বিলটি নিরাপদ করার জন্য পরিবর্তন করা যাবে না। মানবাধিকারের মান পূরণের জন্য এটি সামঞ্জস্য করা সম্ভব নয়। এটি অভিবাসন মন্ত্রীকে 'অত্যন্ত বর্ণবাদী' ক্ষমতা দেবে। অস্ট্রেলিয়ার বহু-সাংস্কৃতিক সম্প্রদায়ের অনেক লোক সত্যিকার অর্থে শংকিত যে এই বিলটি তাদের, তাদের পরিবার এবং তাদের সংযোগের জন্য নেতিবাচক হবে।
অ্যাসাইলাম সিকার রিসোর্স সেন্টারের আইনজীবী বেতিয়া সাকিবা বলেছেন যে সরকার ইরানের মতো নিপীড়ক শাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় এবং আবার সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া মহিলাদের ফেরত পাঠানোর হুমকি দেয়, যা এক প্রকার ভণ্ডামি।
তিনি বলছেন,"আমরা অতীতে সরকার এবং (লিবারেল-ন্যাশনাল) জোটকে ইরানের মহিলাদের (নিপীড়ণের বিরুদ্ধে) সমাবেশ সমর্থন করতে দেখেছি এবং অথচ এই বিলটি ঠিক তার বিপরীত।"
তানিয়া বলেন, বিলটি নিয়ে বিতর্ক চলতে থাকলেও তার পরিবার সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
তিনি বলছেন,"আপনি জানেন, আমি এখন দ্বাদশ বর্ষে পড়ছি এবং আমার পরীক্ষার জন্য পড়াশুনা করা উচিত এবং আমার বন্ধুদের সাথে আনন্দ করার কথা। অথচ প্রতিদিন আমি জেগে উঠি এবং মানসিক চাপে থাকি, এবং ভাবি হয়তো আজই আমি ডিপোর্টেড হতে যাচ্ছি। আমরা সবাই অনিশ্চয়তার মধ্যে বাস করছি এবং এটি আমাদেরকে সত্যিই পাগল করে তুলছে।"
প্রতিবেদনটি পড়তে উপরের অডিও প্লেয়ারে ক্লিক করুন।
আপনি কি জানেন, এসবিএস বাংলা অনুষ্ঠান এখন ইউটিউব এবং পাওয়া যাচ্ছে। হ্যাঁ, আমরা আমাদের প্লাটফর্ম বিস্তৃত করছি। এসবিএস সাউথ এশিয়ান, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় সকল জনগোষ্ঠীর জন্য।
এসবিএস বাংলা টিউন করুন এসবিএস অন ডিমান্ডে সোম ও বৃহস্পতিবার বিকাল তিনটায়। দক্ষিণ এশীয় অন্যান্য ভাষায় সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানগুলো সরাসরি শুনতেও অন ডিমান্ডে টিউন করুন।
এসবিএস বাংলা লাইভ শুনুনএসবিএস সাউথ এশিয়ান-এ, ডিজিটাল রেডিওতে, কিংবা, আপনার টেলিভিশনের ৩০৫ নম্বর চ্যানেলে। এছাড়া, এসবিএস অডিও অ্যাপ-এ কিংবা আমাদের ওয়েবসাইটে।
ভিজিট করুন আর, এসবিএস বাংলার এবং ইউটিউবেও পাবেন। ইউটিউবে সাবসক্রাইব করুন চ্যানেল।
উপভোগ করুন দক্ষিণ এশীয় ১০টি ভাষায় নানা অনুষ্ঠান। আরও রয়েছে ইংরেজি ভাষায় এসবিএস স্পাইস।
আরও দেখুন

অভিবাসী কর্মীদের আরও সুরক্ষা চাই